স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/06/shukno-kashi-dur-korar-upay.html

শুকনো কাশি কেন হয় এবং এটির প্রতিকার কী?

শুকনো কাশি কেন হয় - আবহাওয়ার বিরুপ আচরণের কারণে দিন দিন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে। আমরা আক্রান্ত হচ্ছি জ্বর, কাঁশি, পানিবাহিত বা বায়ুবাহিত নানান রোগে। তারমধ্যে একটি হলো শুকনো কাঁশি, এই কাঁশির বিরক্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হচ্ছে জ্বর, কফ ইত্যাদি না থাকা স্বত্তেও এই রোগ দেখা দেয়। এই রোগ কে বলা হয়ে থাকে ড্রাই কফ বা শুকনো কাঁশি। এই শুকনো কাশির সাথে কফ বের হয় না, এই কফ গুলো গলায় এবং বুকে লেগে থাকে যা একেবারেই অস্বস্তিকর লাগে। এই ড্রাই কফ রোগটি এক্স-রে বা স্টেথিসকোপ করেও কিছু পাওয়া যায় না। এই কাঁশির কারণে ফুসফুসে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

শুকনো কাশি কেন হয় এবং এটির প্রতিকার কী? shukno kashi dur korar upay


এই কাঁশির সঠিক কারণ এবং এর সমাধান জানতে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ুন।

কীভাবে বুঝা যাবে আপনার শুকনো কাঁশি?

কাশিটা কি নতুন বা এই প্রথম হচ্ছে, নাকি এর আগেও প্রায়ই হয়েছে আপনার?

মৌসুমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না। এমন যদি হয় যে শীতে, ঠাণ্ডায়, গরমে, বর্ষায় বা ধুলাবালিতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়, তবে ধরে নিতে পারেন যে এটি অ্যালার্জিজনিত।

আপনার বাড়িতে বা কাজের পরিবেশে এমন কিছু আছে কি না, যা অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ায়। যেমন হয়তো ধুলোমাখা কার্পেট, আলো-বাতাসহীন ভ্যাপসা ঘর, এমনকি পোষা প্রাণী, পাখি বা ফুলগাছের রেণু। হয়তো ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রই আপনার সহ্য হয় না অথবা সইতে পারেন না বেশি গরম ও ঘাম।

শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায়ও অনেকের কাশি বাড়ে। এসবের যেকোনো কিছুই আপনার কাশির জন্য দায়ী হতে পারে। পরিবারে বা বংশে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস এ ধারণাকে পরিপূর্ণ পূর্ণতা দিতে পারে। এক ধরনের হাঁপানিই আছে, যেখানে শ্বাসকষ্ট না হয়ে স্রেফ খক খক কাশি দেখা যায়; একে বলে কফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা। ধুলাবালি বা ঠা-া এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জির ওষুধ বা ইনহেলার এই হলো এর চিকিৎসা।

তবে যারা ধূমপান করে থাকে, তাদের স্মোকার কফ হতে পারে। তামাক শ্বাসঝিল্লিকে ক্রমেই ব্যাহত করছে বলেই কাশি ওঠে। লক্ষ করলে দেখতে পারবেন, স্বাভাবিক সময়ের কাশির চেয়ে এই নতুন কাশি একটু অন্য ধরনের কি না। কিংবা হঠাৎ তীব্রতায় বা ধরনে পাল্টে গেছে কি না। কারণ, ধূমপায়ীদের কফ হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন করলে একটু সতর্ক হওয়া চাই বটে; ফুসফুসের ক্যানসার ধূমপায়ীদেরই বেশি হয়।

যারা ধূমপান করেন, তাদের বছরে কয়েকবার কাশি-শ্বাসকষ্ট-জ্বর মিলিয়ে অসুস্থতা হতে পারে। হয়তো তারা ক্রনিক ব্রংকাইটিসে ভুগছেন।

বিষয়টি নজরে আনুন ও যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করুন। কেননা, এটি ধীরে ধীরে জটিলতর রূপ নিতে পারে। এক মাসের বেশি কাশি, সঙ্গে ঘুসঘুসে জ্বর, ওজন হ্রাস, অরুচি, কাশির সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যক্ষ্মা বা ক্যানসারের আশঙ্কা এ ক্ষেত্রে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই যেকোনো ধরনের আশঙ্কা এবং লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো ধরনের অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। সঠিক চিকিৎসা ও দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

শুকনো কাশির ঘরোয়া প্রতিকার

মধু

শুকনো কাঁশি দূর করার জন্য মধু অনেক উপকারী অষুধ হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন ১ চামচ করে মধু খেতে পারেন এতে আপনি শুকনো কাঁশি থেকে মুক্তি পাবেন। বিশুদ্ধ মধুতে রয়েছে শক্তিশালী এনজাইম যা কাঁশি উপশমে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

গরম পানি

শুকনো কাঁশি দূর করার আরো একটি মাধ্যম হলো গরম পানি। শুকনো কাঁশি হলে ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চা-চামচ লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। নিয়মিত খেলে শুঁকনো কাঁশি দ্রুত সেরে যাবে।

কালো মরিচ

কালো মরিচ হলো কাঁশির অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার। মরিচ তার ঔষধি বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশ পরিচিত। কালো মরিচ গুড়ো করে ঘিতে ভেজে ফেলুন। এটি নিয়মিত সেবন করলে শুকনো কাঁশি অনেক টা কমে যাবে।

মশলা চা

বেসিল, কালো মরিচ ও আদা চা শুকনো কাশি দূর করার অন্যতম প্রতিকার বলে মনে করা হয়। তাই একটি ভাল মশলা চা বানান এবং শুকনো কাঁশি থেকে মুক্তি পান।

বেসিল গুচ্ছ

বেসিলে পাতা গুলো গুঁড়ো করে নিন এবং এর রস গুলো বাহির করুন। এর সাথে আদা এবং মধু মিশিয়ে পান করুন, শুকনো কাঁশি দূর হয়ে যাবে।

আদা

একটি আদা কে পানিতে ভালো ভাবে  ফুটিয়ে নিন, এর পর এর মধ্যে দুই চা-চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩ বার করে পান করুন। 

হলুদ

হলুদের মধ্যে অনেক আয়ুর্বেদিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শুকনো কাঁশির চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন, ১ কাপ পরিমাণ পানি ফুটিয়ে নিন, এরপর এর মধ্যে ১ চা-চামচ হলুদ এবং ১ চা চামচ কালো মরিচ মিশিয়ে নিন। চাইলে এর মধ্যে দারুচিনিও মেশাতে পারেন। ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করুন, উপকার পাবেন।

লেবু

১ চা-চামচ মধুকে ২ চা-চামচ লেবুর রসে মিশিয়ে নিন এবং দিনে ৩ বার এটি পান করুন। এটি আপনার গলার ব্যাথা কমাবে এবং শুকনো কাঁশি থেকে মুক্তি দিবে।

রসুন

রসুন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল যা অবিলম্বে গলার কাশি দূর করতে সাহায্য করে। ১ কাপ পরিমাণ পানিতে ফুটিয়ে নিন। ফুটানোর পর পানি ঠান্ডা হলে এর সাথে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

পেঁয়াজ

এক চা-চামচ মধুতে এক চা-চামচ পেয়াজের রস মিশিয়ে নিন এবং দিনে দুবার করে পান করুন। 

আমাদের শেষ কথা

এই সমস্ত ঘরোয়া প্রতিকার কাশি জন্য একটি সর্বরোগনিবারক ঔষধ হিসাবে বিবেচিত হয়। আপনি যদি প্রতিদিন উপরে উল্লিখিত উপায়গুলো অনুসরণ করেন, তাহলে আপনি কাঁশির দ্বারা আর বিরক্ত হবেন না। এই অত্যধিক ঘরোয়া প্রতিকারের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তবে, যদি দীর্ঘ সময় ধরে কাশি চলতে থাকে তবে আপনার এটা নিয়ে ডাক্তারের কাছে দেখানো উচিত।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?