স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/04/kidney-roger-lokkhon-ki-ki.html

কিডনি রোগ কী? কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ডায়াবেটিস ও কিডনির রোগ নীরব ঘাতক। যাঁদের এই দুটি স্বাস্থ্য সমস্যার যে কোনো একটি রয়েছে, তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই। চলাফেরায়, জীবনযাত্রায় এবং খাদ্যাভাসে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। যখন বিভিন্ন কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়, তখন একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়গুলো জানা থাকলে অনেক সময় সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।

কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি রক্তে উপস্থিত দূষিত পদার্থগুলিকে বিশুদ্ধ করে এবং শরীর থেকে তাদের অপসারণের জন্য প্রস্রাব তৈরি করে। একটি অসুস্থ বা অকার্যকর কিডনিতে ভুগছেন এমন একজন ব্যক্তি অসুস্থ বা বিকলাঙ্গ কিডনির কারণে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই কিডনির পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গও সুস্থ রাখা খুবই জরুরি।

কিডনি রোগ কী? কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার,  kidney-roger-lokkhon


কিডনি রোগের উপসর্গ ও লক্ষণ


১. প্রস্রাবে পরিবর্তন

কিডনি রোগের অন্যতম একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দেয়। প্রাস্রাব অনেক সময় বেশি হয় আবার অনেক সময় কম হয়। বিশেষত এই সমস্যা রাতে বেশি দেখা যায়। প্রস্রাবের রং গাঢ় রঙের হয়ে যায়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনূভুতি হলেও প্রস্রাব হয় না।


২. প্রস্রাবের সময় ব্যথা

প্রস্রাব করার সময় যদি ব্যথা অনূভুত হয় ধরে নিতে হবে এইটা কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হওয়া, জ্বালাপোড়া করা এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ব্যাথার লক্ষণ। যখন এই সমস্যাটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর অনূভুত হয় এবং পিঠের পিছনে ব্যথা করে।


৩.প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া

প্রাস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া কিডনি রোগের আরো একটি লক্ষন। এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এই সমস্যাটি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 


৪. দেহে ফোলা ভাব

কিডনি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। যখন কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয় তখন শরীরের বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। যার কারণে শরীরে ফোলা ভাব তৈরি করে।


৫. মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া

মনোযোগ দিতে না পারার অন্যতম কারণ হলো লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়া। লোহিত রক্তকণিকা কমে গেলে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে আমাদের মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।


৬. সবসময় শীত বোধ হওয়া

কিডনি রোগ হলে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যায়, জ্বর অনূভুত হয় এবং গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়।


৭. ত্বকে র‍্যাশ হওয়া

রক্তে যখন বর্জ্য পদার্থের পরিমান বেড়ে যায় তখন ত্বকে চুলকানি এবং র‍্যাশ তৈরি হয়। কিডনি যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে তখন রক্তে বর্জ্য পদার্থের পরিমান বাড়তে থাকে।


৮. বমি বা বমি বমি ভাব

অতিরিক্ত বমি বা বমি বমি ভাব হওয়া কিন্তু কিডনি রোগের লক্ষন। রক্তে যখন বর্জ্য পদার্থের পরিমান বেড়ে যায় তখন কিডনির রোগে বমি বা বমি বমি ভাব সমস্যা দেখা দেয়।


৯. ছোটো ছোটো শ্বাস

কিডনি রোগে ফুসফুসের মধে তরল পদার্থ জমা হতে থাকে। তাছাড়াও কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এইগুলোর কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, যার কারণে অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।


১০. পেছনে ব্যথা

পিটের পাশে নিচের দিখে ব্যাথা অনূভব হওয়া কিডনি রোগের লক্ষন। কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যাথা হয়। এটিএ কিডনি রোগের অন্যতম কারণ।


কিডনি সুস্থ রাখার খাবার


আমাদের শরীরের সুস্থতায় কিডনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনি আমাদের শরীরকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে, আমাদের শরীরকে ক্ষতিকারক টক্সিন থেকে মুক্ত রাখে। তাই কিডনি সুস্থ থাকা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


কিডনির সমস্যায় প্রতি বছর বহু মানুষ মারা যায়। আমরা অজান্তেই আমাদের খারাপ খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যের এই অংশের ক্ষতি করছি। স্বাদের দিকে মনোযোগ দিতে আমরা এমন অনেক খাবার খেয়ে থাকি যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা কিডনির পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি করছে। তাই আমাদের নিজেদের ভালোর জন্য আরেকটু সতর্ক হওয়া দরকার। কিডনি সুস্থ রাখতে আমাদের কী কী খাবারের প্রতি সচেতন হওয়া উচিত তা নিচে দেওয়া হলো।

  • বাঁধাকপি
  • ফুলকপি
  • রসুন
  • পেঁয়াজ
  • আপেল
  • স্ট্রবেরি
  • ডিমের সাদা অংশ
  • মাছ
  • করমচা
  • কালোজাম
  • লাল আঙ্গুর


কিডনি সুস্থ রাখার ১০ উপায়

কিডনি সুস্থ রাখার উপায়:

মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। মানবদেহে দুটি কিডনি আছে যা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থকে ফিল্টার করে। কিডনি রোগ নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর বহু মানুষ এই রোগে মারা যায়। এ ধরনের রোগের চিকিৎসাও অনেক ব্যয়বহুল। তাই আগে থেকেই কিডনির যত্ন নিতে হবে। তাই আজ জেনে নিন কিডনি ভালো রাখার ১০টি উপায়।


পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন

শরীরের জন্য পানি অনেক উপকারী। যত বেশি পানি খাওয়া যাবে শরীরের জন্য তত ভালো।  কিডনি ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি খাওয়া উচিৎ। অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাতর হয় না।


লবণ কম খান

অতিরিক্ত লবণ শরীর এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকর। আমাদের শরীরে প্রতিদিন মাত্র এক চা-চামচ পরিমাণ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে চাইলে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে পরিহার করতে হবে।


অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন

কিডনি সুস্থ রাখতে চাইলে অতিরিক্ত গরু, ছাগলর মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে।  কারণ এইসব প্রাণীজ খাবার খেলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাছাড়াও চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, নুডুলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিডনি সুস্থ রাখতে চাইলে এইসব খাবার এড়িয়ে চলুন। তাই প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন খাবার তালিকায়।


রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন

রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনি ভালো রাখতে সর্বদা রক্তচাপ ১৩০/৬০ বা তার কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমিয়ে ফেলুন।


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তাই নিয়মিত আপনার ব্লাড সুগার চেক করুন। সুগারের পরিমাণ বেশি থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।


ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান

প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য অনেক ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ কিডনির জন্য একদমই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে ওষুধ কিনলে আপনার অজান্তেই কিডনির বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন না

মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম এর বেশি ভিটামিন সি গ্রহন থেকে দূরে থাকুন।


কোমল পানীয় ত্যাগ করুন

অনেকেই পানির পরিবর্তে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ড্রিংক খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন।


ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন

অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত ​​চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ফলে কিডনির কার্যক্ষমতাও কমে যায়। ফলস্বরূপ, ধূমপায়ী এবং মদ্যপানকারীরা কিডনি রোগের এক পর্যায়ে আক্রান্ত হয়।


কিডনির পরীক্ষা করুন

পরিবারের কেও কিডনি রোগে আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত তাদের কিডনি পরিক্ষা করা উচিৎ। 


প্রতিরোধে করণীয়

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই যাদের দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করা অপরিহার্য এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং শরীরের বাড়তি ওজন দ্রুত কমিয়ে ফেলুন। যারা ধূমপান করে, তাদের জন্য ধূমপান ত্যাগ করার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে। খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস ছেড়ে দিতে হবে। রক্তে কোলেস্টেরল সর্বদা স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে হবে। প্রতিদিন বেশি করে শাক-সবজি এবং ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবে যাদের কিডনি রোগ আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফল খাওয়া উচিত নয়। কিডনি রোগীদের নিয়মিত ওষুধ এবং নিয়মিত চেকআপের প্রয়োজন হয়।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?