স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/03/bron-dur-korar-upay.html

ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায় | ব্রণের দাগ দূর করার উপায়



ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায় — আজকাল ছেলে হোক বা মেয়ে, সবারই ব্রণের সমস্যা থাকে এবং যার জন্য তারা ডাক্তারের কাছে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেন, অনেক সময় এসব চিকিৎসারও ভুল ফলাফলের সম্মুখীন হতে হয়। যার কারণে রোগ না কমলেও অন্যান্য ভুল ফলাফল সামনে আসে। তাই ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায় ব্যাবহার করুন।


bron dur korar upay, ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়,  kivabe broner dag dur korbo, কিভাবে ব্রণ দূর করা যায়, ব্রণের দাগ দূর করার উপায়


ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে নিম্নলিখিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলিকে আপনার জীবনের একটি অংশ হিসেবে ব্যাবহার করুন, এটি মুখের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ব্রণের ঘরোয়া প্রতিকার খুবই সহজ, অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আপনাকে দিতে পারে সুন্দর ত্বক। তো চলুন আজ আপনাদের বলি, কিভাবে ব্রণ থেকে মুক্তি পাবেন।


ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়:


১) মুলতানি মাটি ও নিম পাতা

চার-পাঁচটি নিম পাতা ভালো করে পানিতে ধুয়ে পিষে নিন। এক চা চামচ মুলতানি মাটি ও সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি গাঢ় হয়ে গেলে তাতে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটি মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।



২: মুলতানি মাটি

ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ততার কারণে ব্রণ হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে মুলতানি মাটির পেস্ট মুখে লাগাতে পারেন। মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে।


৩)  শশার রস

শশার রস তৈলাক্ততা দূর করতে  কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। বা Ice কিউব করে রেখেও ব্যবহার করতে পারেন, এতে ওপেন পোরসের প্রবলেমও দূর হবে অনেকটা।


৪) কাঁচা হলুদ এবং চন্দনকাঠের গুঁড়ো

কাঁচা হলুদ এবং চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্রনের জন্য খুবই কার্যকরী দুটি উপাদান। সমপরিমাণ কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়ো মিশিয়ে তাতে পরিমাণমত জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর মিশ্রণটি ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি শুধু ব্রণ দূর করতেই কাজ করে না ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।



৫) আপেল এবং মধুর মিশ্রণ

প্রথমে আপেল এর পেস্ট তৈরি করুন, এরপর তৈরি করা আপেলের পেস্ট এর মধ্যে ৪/৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। তৈরি করা মিশ্রনটি মুখে লাগান, মুখে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ দুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রনটি ব্যবহার এর ফলে আপনার মুখের টানটান ভাব বজায় থাকবে এবং ব্রণ ও ব্রণের দাগ অনেক টা কমে যাবে। এই মিশ্রনটি সপ্তাহে ৫/৬ বার ব্যবহার করুন।



৬) তুলসি পাতার রস

তুলসি পাতার রস ব্রণের জন্য খুবই উপকারী। 

কারণ তুলসি পাতার রয়েছে আয়ূরবেদিক গুন, যার ফলে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর হয়। তুলসি পাতার রস ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন, এরপর শুকিয়ে গেলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ দূয়ে ফেলুন। এইভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করুন।


৭) চন্দন কাঠের গুড়োঁ, গোলাপ জল ও লেবুর রস

চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর এতে ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। গোলাপ জল অনেকের ত্বকের সাথে এডজাষ্ট হয় না। সেক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে তারা মধু ব্যবহার করতে পারেন। এই পেস্টটি  আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।  ভালো ফল পাওয়ার জন্য এই মিশ্রন টি সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যবহার করুন।



৮) দারুচিনি গুঁড়ার ও গোলাপজল

নিয়মিত গোলাপজল ব্যবহারে ফলে  ব্রণের দাগ কমে যায়। দারুচিনির গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ব্রণের উপর লাগান এবং 20 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি ও ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।


৯) পেঁপে ও চালের গুঁড়ো

ব্রণের অন্যতম কারণ হল অপরিষ্কার ত্বক। তাই ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত স্ক্রাবিং ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ পাকা পেঁপে নিন। এক টেবিল চামচ লেবুর রস ও চালের গুঁড়ো প্রয়োজনমতো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখসহ সারা শরীরে লাগান। 20-25 মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে দূয়ে ফেলুন। পেঁপের পাশাপাশি অ্যালোভেরাও ব্যবহার করতে পারেন।


১০) শশার রস, চালের গুঁড়া ও মধু

মুখের ব্রণ দূর করতে শসার রস খুবই কার্যকরী। এছাড়া স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে এর সঙ্গে চালের গুঁড়া মেশাতে হবে। যাদের মধুতে অ্যালার্জি নেই, তারা এই মিশ্রণে একটু মধু যোগ করতে পারেন। সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হবে। ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর হয়ে যাবে। ব্রণ থাকলে স্ক্রাব না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।



১১) পুদিনা পাতা

অতিরিক্ত গরম এর কারণে ত্বকে  ফুসকুড়ি ও ব্রণ হয় সেগুলো দূর করতে পুদিনা পাতা বেশ উপকারী। টাটকা পুদিনা পাতার পেস্ট বানিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট এরপর মূখ ধুয়ে ফেলুন।


১২) স্পেশাল প্যাক

রক্ত চন্দনের গুঁড়া এবং ডালিমের খোসার গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে দুই চা চামচ দুধ বা টকদই দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে কিছুক্ষণ লাগানোর পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি নিয়মিত লাগান। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। ব্রণের দাগও চলে যাবে।





এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে আপনার মুখের ব্রণ সহজেই দূর করতে পারবেন। কেননা উক্ত পদ্ধতি গুলো কোন ভুল ফলাফল দিবে না। ব্রণের চিকিৎসা নেওয়ার আগে সব সময় ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণ করা উচিত কারণ ব্রণ হলে মুখের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চলে যায় এবং মুখ প্রাণহীন হয়ে পড়ে। ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো অবলম্বন করলে, এতে আপনার মুখের উন্নতি হবে। ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায় আমাদের আর্টিকেলটি আপনার কেমন লেগেছে, সে সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা আমাদের সাথে শেয়ার করুন।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?