স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/02/ways-to-lose-weight-at-home.html

ওজন কমানোর উপায় | সম্পুর্ন ঘরোয়া পদ্ধতি



আজকের পোস্টে আমরা ঘরোয়া উপায়ে ওজন কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করব। এই পদ্ধতিটি সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যশীল হতে হবে তবে এতে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা দুর্বলতার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং, আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে এই পোস্ট টি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।


ওজন কমানোর উপায় | সম্পুর্ন ঘরোয়া পদ্ধতি, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বা কুফল কি? ওজন কমানোর উপায় কি?


অতিরিক্ত ওজনের কারন কি?

অনেকগুলি কারণ রয়েছে যা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য  করে এবং যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে সেগুলি বিপথে চলে যেতে পারে এবং সঠিক পথ হারাতে পারে। আর ওজন বাড়লেও তা সহজেই কমানো যায়। ওজন বৃদ্ধির কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো-


১: অনিয়মিত খাবার

আমাদের ওজন বৃদ্ধির প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল অনিয়মিত এবং অতিরিক্ত খাওয়া। খাওয়ার সময় সুষম খাবার না খাওয়া। সাধারণত আমরা দিনে 3 বার খাই। যদি আমরা প্রতিদিন সঠিক সময়ে  খাবার না খাই, তবে এটি ওজন বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল সুষম খাদ্যের অভাব এবং অতিরিক্ত চর্বি এবং তৈলাক্ত বা ফাস্ট ফুড ও পানীয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা এবং একজন ডাক্তারের পরামর্শ থেকে আমি বলতে পারি যে এটি ওজন বৃদ্ধির প্রধান এবং প্রথম কারণ।


২: সঠিক পরিমাণে পানি পান

হ্যা, সঠিক পরিমাণে পানি পান না করার কারনেও আমাদের ওজন বেড়ে যেতে পারে। আপনি যতবেশি পরিমাণে পানি পান করবেন আপনার শরীর থেকে সেই পরিমাণে ঘামের মাধ্যমে বা অন্য মাধ্যমে পানির সাথে শরীরেএ ক্ষতিকর ও বিশাক্ত পদার্থগুলো বের হয়ে যাবে। আর এটি আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরি একটি বিষয়।


৩: শারীরিক পরিশ্রম

আমরা যদি সারাদিন শুয়ে বসে থাকি অথবা এমন কোন কাজ করি যে কাজে কোন শারীরিক পরিশ্রম হবে না, তাহলে এটিই হতে পারে আপনার বাড়তি ওজনের পেছনের একটি অন্যতম কারন। একটু আগে আলোচনা করলাম অতিরিক্ত পানি ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু আপনি যদি শারীরিক পরিশ্রম না করেন, সারাদিন এসিতে বসে কাজ করেন তাহলে তো আপনার শরীরের মধ্যে ঘাম হওয়ার কোন সুযোগ নেই,  যা আপনার ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারন।


৪: মানষিক চাপ

অতিরিক্ত পরিমানে মানষিক চাপের কারনে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। অতিরিক্ত মানষিক চাপের কারনে আপনার শরীরের পরিপাকতন্ত্র, হৃদপিণ্ডের সহ আরো অন্যান্য অংশের উপর প্রভাব ফলে যার কারনে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন। আপনি যদি আপনার মানষিক চাপ কমাতে কোন অষুধ সেবন করেন সেটার কারণে ও আপনার ওজন বাড়তে পারে।


৫: অতিরিক্ত ঘুম

ঘুম যেমন আমাদের প্রতিদিন ঠিকমত প্রয়োজন তেমনি অতিরিক্ত ঘুমের কারণে আপনার ওজনও বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়াও ঠিকমত না ঘুমানো, গভীর রাত করে ঘুমানো, সকালে দেরিতে উঠা ইত্যাদির কারণেও আপনার ওজন বাড়তে পারে।



৬: সময়ানুবর্তিতা

আপনার প্রতিদিনের কাজ ঠিক সময়ে না করার কারনেও ওজন বেড়ে যেতে পারে। ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো, সঠিক সময়ে গোসল, খাওয়া ইত্যাদি না করার ফলে। ওজন কমাতে আপনার সময়ানুবর্তিতা মেনে চলতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলা ভালো।


৭: বয়স বৃদ্ধি

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার ওজনও বেড়ে যেতে পারে। আপনি চাইলে ও আপনার বয়সকে থামাতে পারবেন না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত পরিমান মাপিক খাবার গ্রহন করতে হবে।



অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বা কুফল কি?

আপনি জেনে অবাক হবেন যে অতিরিক্ত ওজন এবং পেটের চর্বি ক্যান্সারের কারণ। প্রতি বছর ক্যান্সারের মৃত্যুর হারের 10-15% অতিরিক্ত ওজনের জন্য দায়ী।


অতিরিক্ত ওজন এর ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল তৈরি হতে পারে, যা মস্তিষ্কের বিকাশের সমস্যা এবং আপনার স্মৃতিশক্তি হ্রাস করতে পারে। সাধারণ মানুষের তুলনায় যাদের ওজন বেশি তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। এছাড়াও, আপনার ডায়াবেটিস এর সাথে ওজন বেশি হলে, আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হবে। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও প্রচুর পরিমাণে দেখা দেবে।

অতিরিক্ত ওজন/স্বাস্থ্যের কারণে মহিলাদের পেটে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং আরও অনেক সমস্যা হতে পারে।

এছাড়াও সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আপনার দৈনন্দিন জীবনের চলাফেরা। অতিরিক্ত ওজনের ফলে, আপনি স্বাভাবিকভাবে দৌড়াতে পারবেন না এবং নিয়মিত কিছু করতে পারবেন না। আপনি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।ভাড়ি কাজ করতে গেলে হাপিয়ে যাবেন। তাই এসব সমস্যা এড়াতে আপনাকে অবশ্যই অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলতে হবে।



ওজন কমানোর উপায় কি?

এখন আমরা জানবো কিভাবে আমরা ঘরে বসে ওজন কমাতে পারি। ওজন কমানোর এই পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ঘরোয়া পদ্ধতিতে কেন? এর উত্তরে আমি বলব, প্রতিটি ওষুধই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে কোনো ওষুধের সাহায্য ছাড়াই শুধু আমাদের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সমস্যা কোথায়? ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওজন কমানোর জন্য এই পদ্ধতি গুলো আপনি অনুসরণ করতে পারেন-


১: সঠিক খাবার

অতিরিক্ত ওজনের প্রধান এবং প্রথম কারন সব সময়ের জন্য’ই হলো খাবার। অতিরিক্ত খাবার পরিহার ও সঠিক সুষম খাবার গ্রহনের মাধ্যমে আমরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। খাবার কম খাওয়ার জন্য খাওয়ার পূর্বে পানি পান করা যেতে পারে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় ভাতের পরিবর্তে রুটি খাওয়া যেতে পারে।  অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য খাবারের ব্যাপারে এই পদক্ষেপ গুলো নেয়া যেতে পারে-


  • প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ
  • সকালে ও রাতে রুটি খাওয়া
  • খাবারের পূর্বে পানি পান করা
  • খাবারের পরেই ঘুমিয়ে না পরে
  • ফাস্টফুড সম্পুর্ন পরিহার
  • কোল ড্রিংকস সম্পুর্ন পরিহার
  • সুষম খাবার গ্রহন
  • ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গ্রহণ
  • চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া
  • শাক-সবজি বেশি খাওয়া
  • খাবার সর্বনিম্ন ১ ঘন্টা পর ঘুমাতে যাওয়া


২: লেবুর ব্যবহার

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লেবুর ভূমিকা অপরিসীম। কারন লেবুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি যা চর্বি এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও মধুর শরবত বানিয়ে খেতে পারেন। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও সারাদিনের পানিয় ও খাবারের সাথেও লেবু খাওয়া যেতে পারে যা আপনার ওজন কমতে সাহায্য হবে।


৩: শারীরিক ব্যায়াম

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করার বিকল্প নেই। সঠিক ডায়েট এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন দ্রুত কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০০ মিনিট শরীরচর্চা করা আবশ্যকীয়।


৫: পরিমিত ঘুম

রাতে ঘুমানোর আগে আপনি প্রোটিন শেক খেতে পারেন। এটি ধীর-নিঃসৃত অর্থাৎ তা ধীরে ধীরে পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যে হজম হয়। এ কারণে আপনি ঘুমালেও আপনার বিপাকীয় অঙ্গকে সারা রাত সক্রিয় রাখতে পারে, যা আপনার ওজন কমাতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে আপনি ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।


৬: গ্রিন টি

আমরা প্রায় সবাই কমবেশি চা পান করে থাকি। এটি আমাদের সমাজে অতি প্রচলিত একটি পানিয়। কিন্তু এই সাধারণ চা এর পরিবর্তে যদি আমরা গ্রিন টি পান করি তাহলে সেটি আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতি কাপ চা ৭০ কিলো ক্যালরি কমাতে পারে। এছাড়াও এই গ্রিন টি আমাদের রোগ প্রতিরোধ খমতা বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে গ্রিন টি-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?