স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/02/vitamin-a-sources-of-benefits.html

ভিটামিন এ-এর প্রয়োজনীয়তা, অভাবজনিত রোগ এবং এর উৎসগুলো কী কী?

ভিটামিন এ-এর প্রয়োজনীয়তা, অভাবজনিত রোগ এবং এর উৎসগুলো কী কী? vitamin a er ovabe ki hoy, vitamin a er ovabe ki hoy, vitamin a er ovabe ki hoy,



শরীরে Vitamin-A এর অভাব হচ্ছে অন্ধত্বের অন্যতম কারণ। শুধুমাত্র Vitamin-A এর অভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। যার ফলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। তাই যারা Vitamin-A যুক্ত খাবার কম খায়, তাদের শরীরে ঘাটতি থেকে যায় এবং তাদের Vitamin-A অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ হতে পারে। Vitamin-A এর প্রয়োজনীয়তা, অভাবজনিত রোগ এবং উৎসগুলো জেনে নিন আজকের আর্টিকেল থেকে।


শরীরে ভিটামিন এ-এর প্রয়োজনীয়তা!

প্রতিদিনের খাবারে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য Vitamin-A ৭০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম থাকা উচিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য দিনে ৯০০-১০০০ মাইক্রোগ্রাম Vitamin-A থাকা প্রয়োজন। শরীরের জন্য Vitamin-A এর কাজগুলো কী কী সেটাই আজকে জানবো।


  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
  • শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • প্রজননক্ষমতা চালু রাখে
  • ত্বক সতেজ রাখে
  • টিউমার ও ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে
  • কোষ, ত্বক, দাঁত ও অস্থি গঠনে ভূমিকা রাখে


অভাবজনিত রোগ

শিশুদের শরীরে Vitamin-A এর অভাব থাকলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ৯ মাস থেকে ৪ বছরের শিশুদের মধ্যে Vitamin-A  এর অভাবজনিত রোগ বেশি দেখা যায়। ক্যারাটোম্যালেসিয়া এই রোগটিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয় পাঁচ বছরের শিশুরা, যার কারণে কর্ণিয়ায় ক্ষত সৃষ্টি হয়। যদি এই রোগের দ্রুত চিকিত্‍সা করা না হয় তাহলে শিশুরা অন্ধ হয়েও যেতে পারে অথবা মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। Vitamin-A  সঠিক মাত্রায় শিশুর শরীরে না থাকলে হাম ও ডায়রিয়া এর মত রোগ গুলো দেখা দেয়। এছাড়া আরও কিছু অভাবজনিত রোগ হতে পারে। সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই চলুন।


১) রাতকানা

Vitamin-A এর অভাবে সব থেকে বেশী যে রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হল ‘রাতকানা রোগ’। রাতকানা রোগটি হলে রোগী দিনের বেলায় অর্থাৎ সানলাইটে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবে, কিন্তু রাতের বেলায় দেখতে সমস্যা হয়। অনেকে রাতে একেবারেই দেখতে পায় না, আবার অনেকে অনেক কিছু ভুল দেখে।


২) রক্ত স্বল্পতা

Vitamin-A  শরীরে কম থাকলে আয়রন ফাংশন ব্যাহত হয়, ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। যার থেকে অ্যানিমিয়া হবার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি।


৩) ত্বকে প্রিম্যাচিউর এজিং সাইন

শরীরে Vitamin-A এর অভাব হলে ত্বক রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে পড়ে। কম বয়সে মুখে বলিরেখা দেখা দেয়, বার্ধক্যের ছাপ চলে আসে মুখে।


৪) ক্যান্সারের ঝুঁকি

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে ২০% মানুষের মধ্যে টিউমার বা স্কিন ক্যান্সার হয় Vitamin-A এর অভাবে (তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া)


কোন খাবারে পাবেন ভিটামিন এ?

১: কলিজা

২: গাজর

৩: কুমড়া

৪: মিস্টি আলু

৫: টমেটো

৬: লাল মরিচ

৭: সবুজ শাক-সবজি

৮: মাছ

৯: দুধ জাতীয় খাবার

১০: ব্রোকলি

১১: লেটুস

১২: আম

১৩: আঙুরের রস

১৪: বাঁধাকপি

১৫: ডিম

১৬: পেঁপে 

১৭: মটরশুঁটি

এবং অন্যান্য


প্রেগনেন্সিতে ভিটামিন এ-এর প্রয়োজনীয়তা

গর্ভস্থ শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেড়ে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকা, দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করা এবং সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠায় ‘Vitamin-A’ প্রয়োজন। গর্ভে থাকা শিশু যেহেতু সব পুষ্টি মায়ের মাধ্যমেই পায়, তাই গর্ভবতী মায়ের শরীরে ভিটামিন এ-এর এই চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার। WHO-এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ৮০০ -৯০০ মিলিগ্রাম Vitamin-A সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে খাবারের তালিকা:- মুরগির কলিজা, ডিম, গাজর, আম, গাঢ় কমলা ও হলুদ রঙের ফল এবং গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?