স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/01/what-are-the-benefits-of-garlic.html

রসুনের উপকারিতা কি কি জেনে নিন!

রসুনের উপকারিতা কি কি জেনে নিন!


আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি মসলার নাম হচ্ছে রসুন। খাবারের স্বাদ বাড়াতে রসুন অত্যন্ত কার্যকরী একটি মসলা। তাছাড়া রসুনের বিভিন্ন উপকারিতাও রয়েছে। আমাদের মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান হচ্ছে রসূন। আমাদের নানা ধরনের রোগ নিরাময় থেকে রসুন সাহায্য করে থাকে। আজকে আমি আপনাদের এর বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানাবো।

আরো পড়ুন: স্বাস্থ্যকর ডায়েটে সবজির ভূমিকা কি?

আমরা শুধু রসুন কে মসলা হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক মানুষ জানে না যে , মসলা ছাড়াও রসুনের অনেক গুনাগুন রয়েছে। রসুন ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাছাড়া রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। যদি কারো উচ্চ রক্তচাপ  থাকে তাহলে প্রতিদিন দুই/তিন কোয়া রসুন খেয়ে নিন। দেখবেন আপনার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটা কমে গেছে।


রসুন এমন একটি মসলা যার উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না। আপনার যদি স্বাস্থ্য বেশি থাকে তাহলে রসুন এর মাধ্যমে আপনি তা কমাতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রতিদিন দুই কোয়া রোশন এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে। এর ফলে আপনার শরীরের মেদ কমে যাবে। রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি এসিড থাকায় এটা শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। কোলেস্টরেল কমার কারণে শরীরের  শরীরের ওজন কমে যায়।

আরো পড়ুন: যেসব খাবার মেদ কমাতে সাহায্য করে

এছাড়াও আপনি যদি প্রতিদিন সকালবেলা দুই কোয়া করে রসুন খান , তাহলে আপনার শরীরে ক্যান্সার কোষ গুলো মরে হয়ে যাবে। এছাড়া প্রতিদিন কাঁচা রসুনের কোয়া খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের চামড়া টাইট থাকবে। আপনার শরীরের চামড়া সহজে কুচে যাবে না। তাই, প্রতিদিন রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন উপকার পাবেন।


রসূনের উপকারিতা সমূহ:


• রসুন রক্ত পরিষ্কার রাখে। মুখে বা ত্বকে অনেক রকম র‌্যাশ, চুলকানি প্রায়শই হয়, তাহলে রোজ রসুন খেতেই পারেন। প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন এটার জন্য যথেষ্ট। সকালে এই কাঁচা রসূনের সাথে খেতে হবে প্রচুর পরিমানে পানি।

আরো পড়ুন: সাইনোসাইটিস সমস্যা | ১০টি ঘরোয়া উপায়ে হবে মোকাবেলা!!

• রসূন শরীরের টক্সিন বের করতেও সাহায্য করে। এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে অর্ধেক লেবুর রস আর দু’কোয়া রসুন কুঁচি গুলে খেলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে সব ক্ষতিকর টক্সিন।


• যাদের ঠান্ডা লাগার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য রসুন খুবই উপকারী জিনিস। এর জন্য গার্লিক টি বানিয়ে খেতে পারেন। গরম পানিতে থেঁতো করা রসুন ফুটিয়ে নিয়ে, তারপরে ছেঁকে পান করতে হবে। আবার গরম ভাতের সঙ্গেও ঘিয়ে ভাজা রসুন খেতে পারেন এতে করে ঠাণ্ডা লাগা তো কমবেই, সাইনাসাইটিসের বা মাইগ্রেন এর কষ্ট থেকেও রেহাই মিলবে। রোজ রসুন খেলে নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা যেমন নিয়ন্ত্রণে আসে, তেমনি পুরো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।


• রসুন কাঁচা কিংবা হালকা সিদ্ধ করে খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমবে। ফলে আপনাত হার্ট থাকবে ভাল।


• রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টি প্যারাসাইটিক গুণাগুণ যার ফলে শরীরে খারাপ ব্যাকটিরিয়া, ফাঙ্গাস আর প্যারাসাইটের মোকাবিলা করতে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে রসুন খাওয়া যাবে। এমনকি  কৃমি থেকে রেহাই পেতেও রসূন অনেক উপকারী। 


• ব্রণ বা বড় পিম্পলের মুখে রসুন কেটে খানিকক্ষণ ধরে রাখলে জ্বালা কমবে। আবার ত্বকের কোলাজেন রক্ষা করতে সাহায্য করে বলে রসুনকে বলা যেতে পারে অ্যান্টিএজিংয়ের অন্যতমতম উপাদান।


আরো পড়ুন: দাঁতের সঠিক যত্নে ৫টি টিপস! সাথে ৫ টি ঘরোয়া উপায়

রসূন ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ:


• রসুন খেলে তা কাঁচা কিংবা অল্প রোস্ট করে খাওয়াই উত্তম। কারণ রান্নার মশলায় বেটে দেওয়া রসুনে খাবারের স্বাদ মিললেও তাতে পুষ্টিগুণ তেমন থাকে না। 


• রসুন খেতে হলে দিনে দু’-তিন কোয়ার বেশি না খাওয়াই উত্তম। এর চেয়ে বেশি পরিমাণে রসুন খেতে হলে চিকিৎসক এবং ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।


• যে কোন সার্জারি বা অপারেশনের আগে অনেক সময়ে চিকিৎসকেরা রসুন খেতে নিষেধ করে থাকেন। ফলে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।


• রসুন শরীর গরম রেখে ঠান্ডা লাগার ধাত কমায় ঠিকই। তবে হাঁপানির সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতন হতে হবে। কারণ সে ক্ষেত্রে নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও  সৃষ্টি হতে পারে।


রসুন এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার অপকারিতা নেই বললেই চলে। রসুনের উপকারিতা বেশি। কাঁচা রসুনের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। উপরে আমি এর কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমি আগেই বলেছি যে , আপনি যদি প্রতিনিয়ত নিয়ম করে সকাল বেলা খালি পেটে দুই কোয়া রসুন প্রতিদিন চিবিয়ে খান , তাহলে আপনার পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর হবে। আপনার পেটে কখনো গ্যাস হবে না। তাছাড়া প্রতিদিন কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ার ফলে শরীরের রক্ত পরিষ্কার হয়ে থাকে।

এছাড়াও কাঁচা রসুনের কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তবে আমরা জানি যে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। আপনি যদি অতিরিক্ত রসুন খেয়ে থাকেন তাহলে এর অপকারিতা ও রয়েছে। এর ফলে আপনাকে নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হবে। তাই অতিরিক্ত রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোয়া রসুনে আপনার জন্য যথেষ্ট।


তাই ঠাণ্ডার মওসুমে শরীর ভাল রাখতে অল্প পরিমাণে রসুন হতেই পারে আপনার নিত্যসঙ্গী।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?