স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/01/blog-post.html

স্বাস্থ্যকর ডায়েটে সবজির ভূমিকা কি?

স্বাস্থ্যকর ডায়েটে সবজির ভূমিকা কি?

পেজ সূচিপত্র:

আরো পড়ুন: যেসব খাবার মেদ কমাতে সাহায্য করে

স্বাস্থ্যকর ডায়েটের প্রধান চাবিকাঠি হলো প্রতিদিন খাবারে সঠিক পরিমাণে ক্যালোরি রাখা। আপনি কী পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করছেন ও কী পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করছেন, তা ব্যালান্স করে এই উপায়। যদি আপনি শরীরের প্রয়োজনের বেশি খাবার খান, তবে বাড়বে আপনার ওজন।

কারণ, আপনি যে শক্তি ব্যবহার করছেন না, তা বাড়তি ফ্যাট আকারে শরীরে জমে যাবে। আবার খুব কম খেলেও ওজন কমে যাবে। শরীরকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে খেতে হবে ব্যালান্স ডায়েট, অর্থাৎ সব ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন সুস্থ পুরুষকে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ গ্রাম ক্যালোরি গ্রহণ করা উচিত। আর একজন নারীর প্রতিদিন দরকার ২০০০ গ্রাম ক্যালোরি।

শরীরকে ফিট রাখতে সবজির ভূমিকা অপরিসীম। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন আট-নয় রকম সবজি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুন   বেড়ে যায়। আসুন জেনে নেই হরেক রকম  সবজির মধ্যে কোন কোন সবজি আমাদের শরীরের জন্যে বেশী উপকারী। 



টমেটোঃ টমেটো যেমন অসাধারণ একটি সবজি তেমনি ফল হিসাবেও এটিকে খাওয়া যায়। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন (lycopene) এবং রেড অর্বস (red orbs) যা ক্যান্সার প্রতিরোধে করতে কার্যকরী। এছাটা রয়েছে ভিটামিন A ও k যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।এটি খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে থাকে। এক বা দুইবার টমেটো খেলে রক্তস্বল্পতার সমস্যা অনেকটাই দূর হতে পারে। সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও টমেটো বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।


ব্রকলিঃ যদি বলা হয় কোন সবজি রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশী কার্যকর তাহলে ব্রকলির নাম আসবে সবার আগে। এটাকে এন্টি অক্সিডেন্টের ষ্টোর হাউস বলা হয়। মলদ্বার, ফুসফুস ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলি খুবই উপকারী। একটু দুঃপ্রাপ্য হলেও খাদ্য তালিকায় মাঝে মাঝে ব্রকলি রাখা উচিৎ।এই সবজি হৃদরোগ, বহুমূত্র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ব্রকলি জারণরোধী (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট) ভিটামিন এ এবং সি সরবরাহ করে কোষের ক্ষতি রোধ করে। ... ব্রকলির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা : ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্রকলি অনন্য। ব্রকলিতে থাকা বিটা ক্যারোটিন, এস্ট্রোজেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: সাইনোসাইটিস সমস্যা | ১০টি ঘরোয়া উপায়ে হবে মোকাবেলা!!

বাঁধাকপিঃ গর্ববতী মায়েদের জন্য বাঁধাকপি খুবই উপকারী কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন B ও ফলিক এসিড যা uteral tube defects প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন C ও K ।বাধাকপিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। বাধাকপির রস নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দূর হয়। এছাড়া বাধাকপি বুক জ্বালা-পোড়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দূর করে।


গাজরঃ চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য গাজরের তুলনা নেই। গাজর প্রো ভিটামিন ও এ ক্যারোটিনের উৎস যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায়তা করে। এছাড়াও গাজরে থাকে ভিটামিন C ও A যা রক্তে সুগারের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।

আস্পারাগাসঃ গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। এতে রয়েছে ফাইবার,ফোলেট,ভিটামিন বি-৬ এছাড়াও  রয়েছে অধিক মাত্রার পটাশিয়াম আর অল্প মাত্রায় সোডিয়াম যা শরীরের জন্যে খুবই উপকারী । বৃহদান্ত্র রক্ষায়ও  আস্পারাগাস একটি কার্যকরী একটা সবজি।


মিষ্টিআলু:  মাটির নিচে জন্মানো মিষ্টি আলুতে রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এতে রয়েছে manganese,ভিটামিন এ, ভিটামিন সি যা digestive system এর জন্য খুব ভালো। এছাড়া রয়েছে আয়রণ ও ফাইবার যা শরীরে প্রচুর শাক্তি জোগায়।


বেগুনঃ  নাম বেগুন হলেও বেগুনের আছে অনেক গুন। এতে আছে এক প্রকার বিরল এন্টি অক্সিডেন্ট nasunin(একটি complex compound) যা আমাদের ব্রেইল চেল কে সুরক্ষা দেয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বেগুন খেলে স্ট্রোক ,ভুলে যাওয়া  রোগে এর মতো রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা কমে আসে। এছাড়া এতে কালোরির পরিমান কম যা হার্ট এর জন্য অনেক ভালো। 


কাপ্সিকাম: হার্টের জন্য লাল,সবুজ,হলুদ রং এর  কাপ্সিকাম উপকারী। এতে রয়েছে ফলিক এসিড ও lucopene যা কান্সার রোধে কার্যকর হয়ে থাকে।


পুঁইশাকঃ বিখ্যাত কার্টুন  “popeye the sailor” দেখেছেন পুঁইশাক  খেলে পপাইয়ের শক্তি বেড়ে যেতো। আসলেই পুঁইশাকে রয়েছে অনেক শক্তি।  আরো রয়েছে flavonoid যা ক্যান্সার ,হৃদরোগ ও osteoporosis থেকে রক্ষা করে।


পেঁয়াজঃ নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। পেঁয়াজে রয়েছে gpcs নামক peptide  যা শরীরের ক্যালশিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে।নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। যার ফলে হার্টের অসুখের সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। হজমে যাদের সমস্যা রয়েছে তাঁরা প্রতিদিন একটু কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?