স্বাস্থ্য টিপস বিডি https://www.shastotipsbd.com/2022/01/5-dental-care-tips.html

দাঁতের সঠিক যত্নে ৫টি টিপস! সাথে ৫ টি ঘরোয়া উপায়

দাঁতের সঠিক যত্নে ৫টি টিপস! সাথে ৫ টি ঘরোয়া উপায়

কথাতেই আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝে না কেউ। নয়তো দাঁতে সামান্য সমস্যায় যেভাবে ডাক্তারের কাছে চলে যান অনেকেই, তা দেখে চিন্তিত খোদ চিকিৎসকেরাও। তাঁদের মতে অনেকেই মুখের ও দাঁতের সঠিক যত্ন সম্পর্কে অবগত না থাকার ফলে অজান্তেই নানা বিপদ ডেকে আনেন। 

চিকিৎসকের কথায়, এই সমস্যার সূত্রপাত আসলে দাঁত মাজার থেকে। সামান্যতম ভুলেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনেন অনেকে। তাই ব্রাশ করার সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখার কথা বলেছেন চিকিৎসক ডাঃ দীক্ষা তাহিলরামানি। তাই দাঁত ব্রাশ করার সময় লোকেদের কিছু ভুল হয় যা বদলে অবচেতনে কিছু ভাল অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। 


দাঁতের সঠিক যত্নে ৫টি টিপস


০১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ


প্রতিদিন অন্তত ২ বার ভালোভাবে আপনার দাঁত ব্রাশ করুন এবং প্রতিবার দুই বা তারও অধিক মিনিট করে সময় নিবেন। এমনভাবে ব্রাশ করতে হবে যেন আপনার ব্রাশ দাঁতের সব দিকে পৌঁছায় এবং আপনার জিহবাকেও যেন স্পর্শ করে। দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রথম দুই মিনিট একটি শুষ্ক ব্রাশে শুধু পানি ব্যবহার করে আপনার দাঁত ব্রাশ করুন। এইসময় কোন টুথপেষ্ট থাকবে না। খেয়াল রাখবেন যেন মাড়ির নিচে আপনার দাঁতের সাথে লেগে থাকা biofilm (হলদেটে প্লাক) পরিষ্কার হয়। GUM লাইনের নিচে ব্রাশ সহজে বাঁকানো এবং সরানোর জন্য একটু সময় নিন, কারণ এটা পরিষ্কার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই মিনিট পর টুথপেস্ট লাগানো যেতে পারে। আপনি এতে ফ্লোরাইডের সুবিধা পাবেন, দাগ দূর করতে পারবেন। আপনার দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে সাদা।


দিনের বেলায় দাঁত ব্রাশ করার কারণে প্লাক উপজাত এবং বিষক্রিয়া জনিত মাথাব্যথার ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব। তাই যদি পারেন দুপুরেও খাওয়ার পর একবার দাঁত ব্রাশ করে নিন। আপনি এ বিষয়ে পরিষ্কার জানার জন্য আপনার ডেন্টিস্টকে অনুরোধ করতে পারেন।

রাতে ঘুমানোর সময় আমাদের মুখ দিনের মতো লালা সুরক্ষা করে না। তাই রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে এক বার দাঁত ব্রাশ করা ভালো। এতে আপনি সকাল পর্যন্ত নিশ্চিন্ত ও সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।


০২. দৈনিক দাঁতে Floss এবং জিহবার স্ক্র্যাপার ব্যবহার করুন

যে কোন খাবার খাওয়ার পর তা আপনার দাঁতের মধ্যে আঁটকে যায় (যেমনঃ মাংস, ভূট্টা, ক্যারেমেল, চিনাবাদাম, মাখন, ইত্যাদি)। তাই দৈনিক আপনার দাঁতে ফ্লস ব্যবহার করুন। ফ্লস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার দাঁতের অন্য পাশকেও পরিষ্কার করতে পারবেন যেখানে আপনার টুথব্রাশ পৌঁছোতে পারে না।

স্বাস্থ্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে জিহবার স্ক্র্যাপার। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং জিহবার প্লাক দূর করার জন্য এটি ব্যবহার করুন। আপনার টুথব্রাশ ব্যবহার করেও জিহবা পরিষ্কার করতে পারেন।


০৩. মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করুন

আপনার ডেন্টিস্টের সাহায্যে একটি ভালো ফ্লোরাইড মাউথওয়াশ খুঁজে বের করুন। ফ্লোরাইড মাউথ ওয়াশ দাঁত জোরদার করতে সাহায্য করে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা শেখানো ভালো। তবে ব্যবহারের আগে বোতলের সাথে থাকা নির্দেশনা অবশ্যই দেখে নিবেন।


০৪. বিজ্ঞতার সঙ্গে আপনার খাবার বেঁছে নিন

স্নেক জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কারন ক্রমাগত স্নেক আপনার দাঁতে প্লাক তৈরি করতে পারে, যা ধীরে ধীরে ক্যাভিটি বা ছোট ছোট ছিদ্র হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। চিনিযুক্ত এবং স্টিকি খাবার এড়িয়ে চলুন। চিনি, আমাদের মুখের ভেতর ব্যাকটেরিয়া জমায়, যা দাঁতের ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। তাই এ জাতীয় খাবার খাওয়ার পর সাথে সাথে প্রচুর পানি বা পানীয় পান করবেন। মনে রাখবেন যে, ফলের রসে প্রচুর এসিড ও প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই ন্যূনতম ফলের রস পান করুন। শুধুমাত্র খাবার-সময়ে অথবা যখন প্রচুর খাবার খাওয়া হয় তখন ফলের রস পান করতে পারেন। বীজ জাতীয় খাবার এবং শক্ত হাড় কম চিবোনোর চেষ্টা করুন। কারণ এটি আপনার দাঁতের molars এর মধ্যে ফাঁটল তৈরি করতে পারে।


০৫. ডেন্টিস্ট এর কাছে যান

অন্তত প্রতি ছয় মাস পর পর আপনার ডেন্টিস্ট এর কাছে যান এবং আপনার দাঁতের কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে আপনার ডেন্টিস্টকে জানান। বছরে একবার একজন পেশাদারী রেজিস্টার্ড ডেন্টাল hygienist এর কাছ থেকে দাঁত পরিস্কার করুন।সবসময় খেয়াল করবেন যে কোন cavities বা মাড়ির রোগের লক্ষণ দেখা যায় কিনা। ব্রাশ এবং floss ব্যবহার করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আপনার দাঁতের ডাক্তার এবং দাঁতের hygienist এর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।




দাঁত ও মাড়ির যত্নে অব্যর্থ ৫ টি হারবাল উপাদান



১। নিম: নিমের হার্বাল গুণ আপনার অজানা নয়। নিমের ডাল প্রকৃতির সর্বোৎকৃষ্ট দাঁতন। নিয়মিত নিমের দাঁতনে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি উভয়ই সুস্থ থাকবে। রক্ষা পাবে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন থেকে। চার-পাঁচটা নিম পাতা পানিতে সিদ্ধ করে, সেই পানিতে একচিমটি পরিমাণ লবণ দিয়ে প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কুলকুচি করার অভ্যাস করলে আপনার দাঁত ও মাড়ি থাকবে সুস্থ-সবল।


২। যষ্টিমধু: যষ্টিমধুর ফল ও মূলে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, লিকোরিসিডিন ও লিকোরিসোফ্লাভিন। এরা মুখ গহ্বরে জীবাণুর বৃদ্ধি দমন করে ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে দেয় না। বাজারে যষ্টিমধুর গুঁড়া পাওয়া যায়। প্রতিবার দাঁত ব্রাশ করার সময় সামান্য পরিমান যষ্টিমধুর গুঁড়া দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির রোগ উপশম হবে।


৩। তুলসী : তুলসীর রয়েছে প্রচুর ঔষধিগুণ। এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান তুলসীতে রয়েছে। দাঁতের প্লাক থেকে জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করতে তুলসীর গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম। তুলসীর দুটি পাতা মুখে নিয়ে চিবিয়ে ফেলে দিন। আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হবে। মাড়ির অসুখেও উপকার পাবেন।


৪। পেয়ারা পাতা: দাঁত ব্যথায় পেয়ারা পাতা দারুন ওষুধ হিসেবে কাজ করে থাকে। মাড়ির রোগেও পেয়ারা পাতা উপশম দেয়। কিছু পেয়ারা পাতা সেদ্ধ করা গরম পানিতে এক চিমটি পরিমাণ লবণ দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে


৫। লবঙ্গ: লবঙ্গ হচ্ছে দাঁত ও মাড়ির যত্নে সবচেয়ে ভালো উপদান। এটি মুখের দুর্গন্ধ ও দূর করে। নিঃশ্বাসে সজীবতা আনে। লবঙ্গতে ইউজিনল নামক উপাদান রয়েছে। এন্টিসেপটিকের কাজ করে। মুখের ক্ষত, মাড়ির ঘা দূর করতে লবঙ্গের তুলনা হয়না। মাড়ি বা মুখের ক্ষতে লবঙ্গ তেল মাখলে দ্রুত তা সেরে যায়। আর একটু লবঙ্গ মুখে রাখলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।



দাঁতের সঠিক যত্নে কিছু করণীয়


১. আপনার টুথ ব্রাশ প্রতি তিন মাস পর পর পরিবর্তন করুন।

২. প্রতিদিন দুধ পান করার চেষ্টা করুন, এটি আপনার ক্যালসিয়াম বাড়ায়। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করবে।

৩. টুথব্রাশ এমন হতে হবে যেন সহজেই তা গুম্লিন এর দিকে বাঁকানো যায়। একটি ছোট বৃত্তাকার গতিতে আপনার দাঁতের ভেতরে, বাইরে, উপরে এবং GUM লাইনের নিচে ব্রাশ করুন। কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং চিনিযুক্ত খাবার আপনার পরিহার করতে হবে।

৪. খুব শক্ত ব্রাশ আপনার মাড়িতে আঘাত করে রক্ত ঝড়াতে পারে আর খুব নরম ব্রাশ প্লাক দূর করতে পারে না। তাই মাঝারি ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করুন।

৫. যখন আপনার সামনের দাঁতের ভেতর পাশ ব্রাশ করবেন, প্রথমে টুথব্রাশকে আপনার দাঁতের ডান পাশের উপর রাখুন। এরপর ব্রাশ নিচে এবং উপরের দিকে সরিয়ে প্রতিটি দাঁত ব্রাশ করবেন। এই পদ্ধতি প্রতিটি দাঁতের জন্য বেশ কয়েকবার করে করুন।

৬. দাঁত ব্রাশ করার পরে মুখে মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

৭. আপনার জিহবা ব্রাশ করতে ভুলবেন না, সেই সাথে আপনার মুখের উপরের তালু।

ব্যাকটেরিয়া আমাদের একটা অংশ, এটা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।প্রত্যেকের মুখেই লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যার কোন উদ্দেশ্য নেই। এটি দাঁতের পৃষ্ঠের চারপাশে নিজেদের স্থান করে নেয় এবং আমাদের দাঁতে “প্লাক” সৃষ্টি করে অদৃশ্য ভাবে আমাদের দাঁত ক্ষয় করতে থাকে। এটা খুব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং দ্রুত ঘটে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার জিহবা আপনার দাঁতের উপর চালালেই এই অনুভূতি অনুভব করতে পারবেন। তাই অবহেলা না করে সঠিক ভাবে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁতের সঠিক যত্নে এই কাজগুলো করুন, আশা করি সুস্থ থাকবে আপনার দাঁত।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

স্বাস্থ্য টিপস বিডি কি?